তখনও নামেনি সন্ধ্যা

বন জঙ্গল হয় তো বা মানুষের মতোই
মানবতা –জঙ্গলিপনা হারাচ্ছে ক্রমে
জনপদের মতোই অগ্নিদগ্ধ হয় কখনো কখনো
কাঠ-চোর অথবা ভূমি দস্যুদের কোপানলে
এবং নদী বা সাগরের রোষানলে
মানুষেরই মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে
অথবা শেষ কাজের পরে
ফুসফুস ভারী হয়ে ওঠে ধুলো জমে
হৃদয় ছোট হয়ে আসে ক্রমে
অনাবাদি আকাঙ্ক্ষায়

শাসকগণ / ফেন্টন জনসন

শোনা যায়, উপদ্রুত ইউরোপের বেশ কজন রাজা বেচবেন নিজ নিজ রাজমুকুট সুখময় দিনের জন্য।
আমি এমন এক রাজাকে দেখেছি, সে তাঁর সুখের ধন-রাজি সব জাপটে ধরে রেখেছে কষে।
ফিলাডেলফিয়ার লম্বর্ড স্ট্রিটে, সাঝের আধার টুপ করে নেমে আসার পর আমি দেখলাম, চন্দ্রছাড়া আকাশের মতোই বিমর্ষ একজন শ্রমিক; আটার বস্তার সিংহাসনে বসে হাত নাড়িয়ে চলেছে প্রভুর মতোই। পাশে দুটো অল্পবয়সী ছেলে গিটারে বাজাচ্ছে সে-দিনের রকটাইম সুর।
হে ঈশ্বর, বর্ষণ করো শান্তি, ফিলাডেলফিয়ার লম্বর্ড স্ট্রিটের এই রাজ্যপাটে।

গাটছড়া বাঁধা

তবে ওদের সাথেই আমার গোটা জীবনের
গাটছড়া বাঁধা আজীবন

তেতলা বাড়ির ছাদে মহড়ায়
আজও দেখি: আমি বসে আছি অপেক্ষায় সুশান্তের;
বড় ছটপটে এবং চটপটে, শত কাজ সেরে বা ফেলে রেখে
সে আসবেই রিহার্সেলে সাঝে লাস্ট ট্রেনে ফিরে যাবে
নাটক করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তার জীবনে।
নাটক করে, ডাক্তারি পড়ে, কবিতা লিখেও
প্রেম করবার সময় করে নিয়েছে দু-তিনটে প্রতিবারে আমিনুল
ওর হাত ধরেই চিনেছিলাম প্রসেনিয়াম
ওর মানিব্যাগ এবং মন বরাবরই ছিল আমার জন্যে খোলা
ঘরের দরজাও, যখন তখন আড্ডা, সকাল থেকে সাঝ বারো মাস।
অসম্ভব মেধাবী চেহারা ধারী চাপা কন্ঠের পলাশ
ভাবতাম, ও যে জীবনে কত বড় হবে — চে নাকি ত্রোৎস্কি
ইয়ার্কি মেরে বললেও জানতাম, সে যে কবি বা কবিতা নয়,
ভুরী ভুরী ছবির মতোই ভারি গদ্য — গের্নিকা
আর একেবারে সূর্যমুখি ফুলের মতোই সদাহাস্য
অনুপম, সেই আমাদের হালবিনা নাও কালেই চাকুরিজীবী
দুয়েকজনতো আবার দেশের বিধায়ক, তখনও বোঝা যায় নি
ওরা এমন সহজ পেশা বেছে নেবে
সবাই আজ ফেসবুকে —
একাডেমি চত্বরে বসে চা সিগারেট আর কাপে কাপে আড্ডা

ত্রিশটা বছর! নাকি, তিনশ বছর
সবার সন্ততি জন্মদিন সানাই কেক মোমবাতী
কেউ কেউ এসে বসলো না ফেসবুকের মহা ‘কফি-হাউসে‘
আর কে কে যেন হারিয়ে গেছে কোথাও
তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় নি
আর কাকে কাকে তো যেন খঁজে দেখাও হয় নি
এই ছোট হয়ে আসা জনবহুল পৃথিবীতে
মনের অজানতে চাপা পড়ে গেছে তারা হৃদয় খাঁদারে

সূর্যাস্ত / এফি লী নিউসাম

যেহেতু কবিরা সব গেয়ে গেছেন সূর্যাস্তের গান
কী বা আর রয়ে গেছে বাকি শোনাবো আজ
আমি দেখেছি শুধু অতি সাধারন দিনমান
রাঙ্গা ঠোটে জাপটে ধরেছে ধূসর দিগন্তকে
চুম্বন করে চলেছে বিশ্বটাকে বিদায় বেলায়

যাবৎজীবন দন্ডে

সাইত্রিশ বছর আগের প্রেম, শীলা,
তুমি তখন বড় শান্ত সর্বংসহা এক কিশোরী
প্রেমে যত অত্যাচার করা যায়
সবটুকু করেছি ঠিকই
কখনো ভাবি নি তোমাকে ছাড়াও আমার জীবন চলতে পারে
জীবন কী চলে এসেছে এতটা দূর?

বই থেকে যতবার মুখ তুলে
তাকাই জানালায়
দেখি খরতর রোদ
তাকাই দেয়ালে
সেখানে সাজানো থরে থরে বিরক্তি
আর ঘৃণা
কেউ দেখে না, ঝুলের মতো আগাছা হয়ে ঝুলে আছে
ঘরের এখানে সেখানে সর্বত্র
দরজায় দেখি
পালিয়ে বাঁচার বড় সড় বাঁধা
সে এক, একা বই
আর তাতে কালো কালো লক্ষ পিপড়ের মাঝে
ডুবে থাকি সারাক্ষণ
ভুল সুধরানো না গেলে
শাস্তি তুলে নিতে হয় নিজ হাতে
আমি লোকালয়ে বসবাস করেও
দ্বীপান্তরের শাস্তি নিয়েছি তুলে

তুমিও নিশ্চয়ই
দু-চারটে ছেলে মেয়ের রুক্ষ সুক্ষ্ম মা হয়ে
শাস্তি কাটছো যাবৎজীবন দন্ডে