চাকুরির সুবাদে

শত বছর আগেও
গ্রামে বসে আমাদের পূর্বজ জানতো কী
তাঁদের সন্তানেরাও বসবাস গড়বে ইউরোপে!

আজ তাই আমিও জানি না, হয়তো
আমারই উত্তর পুরুষের কেউ কেউ
গিয়ে থাকবে চাঁদে বাড়ি ভাড়া করে
চাকুরির সুবাদে।

কবির পক্ষে, কাউন্টি কুললিন

আমার স্বপ্নগুলো মুড়িয়ে রেখেছি সব কিংখাবে,
তারপর সোনার তোরঙ্গে রেখেছি তা ফেলে দূরে;
যেথায় মথের ঠোট দীর্ঘ্য দিন রয়ে যাবে বন্ধ,
আমার স্বপ্নগুলো মুড়িয়ে রেখেছি সব কিংখাবে,
কোনো ঘৃণা চাপা রাখি নি; রাগি নি মোটেও
যার কাছে পৃথিবীর শ্বাস-প্রশ্বাস এত নিবিড় ও শীতল
আমার স্বপ্নগুলো মুড়িয়ে রেখেছি সব কিংখাবে,
তারপর সোনার তোরঙ্গে রেখেছি তা ফেলে দূরে।

আজো শব্দ বোনে

আস্ত সূর্য অস্ত গেল! পাহাড় মেঘের নীচে
এ জ্যোতিষ্ক
জীবন্ত মানুষের মতই
সত্যাসত্যের ভেদাভেদ করে, দেখিয়ে দেওয়া
মেঘতো মেঘই, পাহাড় ঘুমন্ত ভিসুভিয়াস
আর নদীগুলো সব আলোর ছটায় নীল
কেউ গেছে চলে বনে, বুনে দিতে রক্তে রাঙ্গানো বীজ
কেউ কেউ আজো শব্দ দিয়েই রক্তে জ্বালা বোনে
ধোয়ার মশাল জ্বেলে
বীরশ্রেষ্ঠ আর্য
বীরজাতির বীর্য তোমার গায়ে।

নৈকট্য

আমি একেবারে তোমাদের বিপরীতেই বাস করি, কাছাকাছি
তাই, তুমি উজ্জ্বল, আমি উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণ
তুমি ঘুমাতে যাও তখন যখন আমরা জেগে কাজ করি
এবং আমরা যখন কাজে যাই তোমরা তখন বিছানায়

আমি তোমার ঠিক বিপরীতে বাস করি, প্রিয়
ঠিক পৃথিবীর উল্টো দিকে, পাশের বাসায়
তাই তুমি বলো সুভ রাত্রী
আমি শুনি গুড মর্নিং

স্বপ্ন বোনা

কে বলে মৃত্যু মানে স্থান ছেড়ে চলে যাওয়া
মৃত্যু মানে কাজ ফেলে রেখে সরে পড়া
জীবন মানে শুধু নিঃশ্বাস নেওয়া নয়
পৃথিবীর কিছুটা দায়িত্ব তুলে নেওয়া নিজ ঘাড়ে
এবং মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে জেগে জেগে
স্বপ্ন বোনা দিনে এবং রাতে।

আকাশে মেঘতো আছে

বুনো হাঁসে আর ঘাসে এত মেল মেশ
দেখেছি আজ ভোরের কালো রোদ্দুরে
সূর্য এখন মেঘে চড়ে, আড়াল করে মুখ
ঝর ঝর ঝর কাঁদবে এবার, কখন কে জানে
ঘ্রাণ উঠেছে হাওয়ার তালে, ভাসে সে বারতা
নিশিথিনী, দেহপসারিনী মেয়ে, ঘুমোয় ঘরে ফিরে
ও ইট ভাঙ্গানী মা, যেও না কোথাও ঘরে দুয়োর দিয়ে রাখো
আজ উপোশ দিয়ে থাকো, বুকের দুধ খাওয়া ছেলেটাকে
চোখ রাঙ্গিয়ে রাখো, আজ বৃষ্টি হলে হোক না ভীষন
হোক না তুমুল ঝড়

বুনো ঘাসে আর হাঁসের ডানায় ডানায়

উষা, লুইস গ্লিক

(২০২০-এ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী কবি)

১.
অন্ধকার ঘরে ছেলে জেগে ওঠে
চিৎকার করে কাঁদে, হাঁস ফিরিয়ে দাও, হাঁস ফিরিয়ে দাও

এমনই সে ভাষা আগা মাথা তার কেউ বোঝে না আশে পাশে

কোনো হাঁস নেই সেথায়

বরং একটা কুকুর, ধবধবে সাদা
শুয়ে কাছা-কাছে জড় সড় নিজ খাবারের গামলায়

বছরে বছরে বছর গেলো – অনেক বছর চলে।
সবটাই স্বপ্ন। তবে হাঁসটা –
কেউ জানে না তার কোথায় কী হলো।
২.
ছলেটার সাথে পরিচয় এইতো, এখনই
ওরা শুয়ে থাকে এক খোলা জানালার পাশে

কিছুটা তাদের ডেকে তোলবার জন্যে, নিশ্চিত করা
যে রাতের যা যা তাদের মনে পড়ে তার সবটুকুই ঠিক,
এখন আলো ঢুকতে চায় ঘরে,

তাছাড়াও ওদের দেখানো দরকার কীভাবে কী হলো:
নোংরা গদির নীচে অর্ধেক উকি মারা পায়ের মোজা,
সবুজ পাতায় সাজানো লেপ –

সূর্যালোকে উজ্জ্বল
সে সব তবে বাকি রয়ে গেছে আরো,
সীমানার ভাগ, নিশ্চিত, গায়ের জোরে নয়,

তারপর সুদীর্ঘ, বর্ণন
প্রতিটা চুলচেরা
রূচিবাগীশ, স্যাহিত্যের নির্মান,
বাদ পড়ে না চাদরে পড়ে থাকা তিল পরিমান রক্ত।
৩.
পরে, সারা দিনের জন্যে তারা দূরে সরে গেলো
তাও পরে, ডেস্কে, বাজারের ভেতর,
ছেলেটার দেওয়া সংখ্যায় ম্যানেজার মোটেই খুশি নন
নীচের স্তরে সব ছাতনা ধরা ফল-

ফলে একজন অপসৃত হয় পৃথিবী থেকে
এমনকি যেন একজন তাতে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারে –

বাড়ি ফিরে এসে, যখন তুমি দেখতে পেলে সেই ছাতা
ততক্ষণে সব শেষ, ভিন্ন কথায়

যেন সূর্য তোমায় অন্ধ করে রেখেছে মুহূর্তখানেক।

পঙ্খীরাজ ঘোড়া

রাজার রাজ্যে ঘোড়ার কারবার বেশী
তরবারি আর গাদা বন্দুক
কামান হাতী ও বজরা
তারো আগে
রথ তীর-ধনুক গদা
সবার আগে রুপকথার পঙ্খীরাজ
আজো মাঝে মাঝে ঘুম না এলে
জেগে বসে খুঁজে ফিরি
সেই পঙ্খীরাজ ঘোড়া

তেসরা ডিসেম্বর ২০২০

শেষ অভিসার

না যদি চুপিসারে থাকেই প্রেম আজো
হিয়ায় কেন ওঠে ঝড় কাল বোশেখীর মতো
দক্ষিণ দুয়ারে কেন সে দেয় টোকা, সংগোপনে?

তোমার প্রিয় হাতের ঘড়ি, আমার প্রিয়
মাতাল করা তোমার গায়ের রং; প্রেমের শেষ অভিসারে
রই রিক্সায় বেশ কিছুক্ষণ।

প্রেরণা তোমার কাছেই পাওয়া
মেরে হৃদয় বাঁচাই জীবন।

১৬ই ডিসেম্বর ২০২০