মিঠা পানির নদী

প্রতিটা সাগর, উপসাগরই আসলে নিছক একেকটা ‍হ্রদ, বিশাল
যদি না সাগর বা মহাসাগরের সাথে তার কোনো সংযোগ থাকে
নেহায়েত একটু সংযোগ আর লবনাক্ততা
মানুষগুলো তাই অন্য কোনো গুনাগুন নয়
লবন খোঁজে লবন আর মাথার উপর
সাগর, মহাসাগরের হাত
কুল কিনারা থাক বা না থাক, দেখা যাক বা না যাক
তুমি সোজা এঁকে বেঁকে গড়িয়ে এসে পড়লেই কিন্তু
তুমি নদী। আর আমি নদী হয়ে থাকতেই ভালবাসি
কুলু কুলু বয়ে যাওয়া মিঠা পানির নদী
বকশি বাড়ির ঘাট, পাকশীর ব্রিজ, গোয়ালন্দ ডুবিয়ে যাওয়া
কেওড়াতলার শ্মশান আর মঠবাড়ি মুন্সিদের গোরস্থান ভিজিয়ে যাওয়া নদী।
খোদার কসম, সাগর নয় উপসাগরও নয়
আমি পড়ে থাকতে চেয়েছি নদী বা কেবলই একটা খাল হয়ে;
বাড়ির মেয়ে-বউ জল নিয়ে যাবে, ছেলে ছোকড়ারা ডিগবাজি খাবে
জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে, বাজারে বেচে বেচে
আইবুড়ো মেয়েটার বিয়ে দেবে।
কেউ কেউ বেয়ান বেলায় ওজু করে আমার ঘুম তাড়াবে
সূর্য প্রনাম করে আমায় গায়-গতরে রোদ মাখাবে।

অথৈ জলে এসব কোথায়? সমাজ ছেড়ে পড়ে থাকা সাগর হয়ে!

হাট বসেছে, আমি না হয় নালা-ই হলাম
হে প্রভু, সব দিয়েছো, তবু ভাবি, আর একটু যদি ব্যাপ্তি দিতে!
যা দিয়েছো খুব দিয়েছো, বয়ে চলেছি, নির্জনে নয়, নিরবধি লোকালয়ে
তোমার আরও আর কি-ই বা আছে, চাইতে হবে কোঁচড় পেতে!

২ Replies to “মিঠা পানির নদী”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *