বারবারা / জাক প্রেভের

মনে পড়ে বারবারা
ব্রিস্টে সেদিনটাতে বৃষ্টি হয়েছিল নিরন্তর
তুমি চলে গেলে হেসে হেসে
দীপ্ত, মোহনীয়, ভিজে জবজবে
বৃষ্টিতে।
মনে পড়ে বারবারা
অঝোরে বৃষ্টি সেদিন নিরন্তর ব্রিস্টে
সিয়াম স্ট্রিটে আমি গিয়েছি ছুটে তোমার কাছে
তুমি তাকালে হাসি হাসি মুখে
আমিও হেসেছিলাম।

মনে পড়ে বারবারা
তোমায় আমি চিনতাম না মোটেই
তুমিও কী চিনতে আমাকে,
মনে পড়ে,
আজও মনে পড়ে দিনটা স্পষ্ট
ভুলি নি এক চুলও
এক ভদ্রলোক বারান্দায় বেরিয়ে এসে কোনো মতে
চিৎকার করে ডাকছে তোমাকে
বারবারা,
আর, সেই বৃষ্টি মাথায় এক দৌড়ে তুমি চলে গেলে
দীপ্ত, মোহনীয়, ভিজে জবজবে
তুমি গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছ তার বাহুডোরে

বারবারা মনে পড়ে সে কথা
রেগে উঠো না যদি কিছু অবাধ কথা বলি,
আমি সচরাচর অবাধেই কথা বলি তাদের সাথে
যাদের আমি ভালবাসি
হয়তোবা তাদের দেখেছি কেবলই একবার
আর যারা প্রেম করে তাদের সবার সাথেই আমি
অবাধেই কথা বলি
এমনকি তাদেরকে হয়তো চিনি না জানি না
মনে রেখো বারবারা
ভুলো যেও না
সেই সুমধুর সুখের বৃষ্টির কথা
তোমার চোখে-নাকে-মুখে
সেই সুখের নগরীতে,
সেই ঝর ঝর ধারা সাগরের বুকে,
অস্ত্রাগারের ছাদে
উশান্তের যোদ্ধা জাহাজে

শোনো, বারবারা
যুদ্ধ যে কী চরম বোকামি
কী হয়ে গেছে তোমার
এই অয়ময় বৃষ্টিতে
অগ্নিময়, লৌহ ও রক্তে,
আর যে তোমায় কামান্ধ বহুবন্ধনে আটকে রেখেছিল
সে কি মারা গেছে নাকি চলে গেছে অথবা এখনো বেশ
বেঁচে বর্তে আছে

বারবারা, শুনছো
আজ সারাটা দিন ব্রিস্টেতে বৃষ্টি
আগেও যেমন হতো,
তবে এ-তো আর এক নয় কোনে মতেই,
সব কিছুই ম্লান হয়ে আছে,
এ তো বৃষ্টি শোকের, ভয়ংকর এবং নির্জনতার,
না, একে এখনো ঝড় বলা যাবে না
অগ্নিময় – লৌহ ও রক্তের,
নিছকই মেঘের বৃষ্টি
কুকুরের মৃত্যু বরাতে,
কুকুর যেমন দৌড়ে পালায় আড়ালে
মুশল ধারায় ব্রিস্টের ডুবে যাওয়া জলে
ভেসে বয়ে চলে যায় ক্ষয়ে যেতে
দীর্ঘ পথ ধরে কোনো কানা গলিতে,
বহু দূর, বহু দূর ব্রিস্টে ছাড়িয়ে অনেকটা দূরে
সেখানে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *