তৃতীয় প্রজন্মে এসে

কোকিলের ডাক শুনি ঘরে বসে শহরেই
বৈশাখের বাতাস জানালা ফুঁড়ে এসে লাগে ঘাড়ে গর্দানে
শুনেছি আমাদেরও একটা গ্রামীন জীবন ছিল তিন প্রজন্ম আগেই
দাদাজান এই যে চারতলা বাড়িটা করেছিলেন এখানে
শহরে, সস্তায় পাওয়া দুকাঠা জমির উপর, এখন
নিজেদের থাকবার চারখানা রুম; বাকিটা ভাড়াটিয়া

এই চারটে রুমই ভুলিয়ে রেখেছে আমাদের
মধুমতী নদী ঘেসে গ্রামটা আর সেখানে
চার বিঘা জমিতে পড়ে থাকা চুন-সুরকীর দোতলা দালান
এবং এক বিধবা চাচাতো ভাবি
ভেঙ্গে পড়ছে ধীরে ধীরে

দাদাজান বলতেন, “আহারে যদি ফিরে যেতে পারতাম
পায়ের এই শৃঙ্খলটা ছিড়ে ফেলে!“

গ্রামে গিয়েছি দুচারবার, বিদেশ ভ্রমনের মতো
কোকিলের ডাক, পাখিদের কিচির মিচির আর
সেই ব্যাথা –শৃঙ্খল ছেড়বার ইচ্ছেটা
শুধু ঐ ইচ্ছে টুকুতেই বেঁচে আছে আমার গ্রাম
আমার বুকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *