কর্মযজ্ঞ / ফিলিপ লিভাইন

দাঁড়িয়ে আছি বৃষ্টিতে দীঘল এক সারিতে
ফোর্ড হাইল্যান্ড পার্কে। কাজের আশায়
তুমি কি জানো কাজ মানে কী –যদি তুমি
এটা পড়বার মতো বড় হয়ে থাকো তো তুমি জানোই
কাজ মানে কী, হয়তো তোমাকে করতে হচ্ছে না।
বাদ দাও, বলছিলাম দাঁড়িয়ে থাকবার কথা
এক পা থেকে আরেক পা, পা বদলানো।
যেন কুয়াশার মতো ইলসেগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে
মাথার চুলে, চোখে চারিদিক সব ঝাপসা হয়ে আসে
একটু পরেই মনে হবে নিজেরই ভাইকে দেখছ তুমি
তোমার সামনেই, দু-দশ জনের আগেই।
চোখের চশমাটা ভালো করে ঘসে ঘসে তাকাবে,
হ্যা, দাঁড়িয়ে আছে সামনে অন্য কারো ভাই,
কাঁধ ঝাঁকিয়ে বোকা বোকা লাগবে নিজেকে
তুমি তখনো সেই বিমর্ষ জবুথবু মানুষ, ভেংছি কেটে হাসছো
তবে তাতে জেদীপনাটা লুকানো গেলো না,
দুঃখজনক প্রত্যাখ্যান করতে তো পারছো না
যা অবগত হলে একটু আগে সামনে কোথাও
একটা মানুষ বসে বসে বলে দিলো, “না,
আজ আমরা আর লোক নিচ্ছি না।“ যে
কাজ সে করাতে চায়। ভাইকে তুমি ভালবাসো,
এখন হঠাৎই তোমার পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা শক্ত হবে
ভাতৃ প্রেমের বন্যা তোমায় ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে,
সে কিন্তু তোমার পাশে নেই কিম্বা পেছনেও নেই অথবা
সামনেও নেই কারন সে এখন চেষ্ট করে যাচ্ছে
ঘুমিয়ে ক্যাডিল্যাকে রাতের সিফ্টে নির্মম কাজের ধকল
কাঁটিয়ে নিয়ে দুপুরের আগে জেগে জার্মান পড়তে যাবে।
প্রতি রাতে আট ঘন্টা খাটে যাতে ও সময় পায়
গাইতে ওয়াগনার, অপেরা, তোমরা খুব ঘৃণা করো,
মনে করো শিল্পের নিকৃষ্টতম রচনা।
কত দিন হবে তুমি ওকে একবার বলেছ
তুমি ওকে ভালবাসো, তার চওড়া কাঁধ ধরে,
তোমার চোখ দুটো পুরো খুলে বল ফেলো কথাগুলো,
ওর গালে একটা চুমু খেলে আরো ভালো? করো নি কখনো
এত সহজ অনস্বীকার্য একটা কাজ, করে ফেলো।
ভেবো না তোমাকে খুব ছোট বা বোকা মনে করে বলছি,
ভেবো না তোমায় ঈর্ষা কাতর ভাবছি
অথবা মনে করি না তুমি কাঁদতে পারবে না
অন্য কোনো মানুষের সামনে, না,
বলছি শুধু একটাই কারনে, তুমি জানো না কাজ মানে কী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *